আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আবারও ঘোষণা করেছেন যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি গাজা উপত্যকাকে ‘বেসামরিকরণ’ এবং হামাসকে সম্পূর্ণ ‘নিরস্ত্র’ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রোববার (১৬ নভেম্বর) এক সরকারি বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বা ভূখণ্ড নিয়ে আমাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন নেই। গাজাকে বেসামরিকরণ করা হবে এবং হামাস নিরস্ত্র হবে—যেভাবেই হোক। এ বিষয়ে আমার আলাদা কোনো স্বীকৃতি বা বিবৃতির প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে গাজা অস্ত্রমুক্ত থাকবে এবং হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে। তার ভাষায়, “এই অবস্থান একেবারেই অটল। জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরের কোনো ভূখণ্ড নিয়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা আমরা দীর্ঘদিন ধরে করছি এবং এটিতে এক বিন্দুও পরিবর্তন হয়নি।”
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন চলমান। এমন পরিস্থিতিতে এখন ইসরায়েল সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ইসরায়েল এই যুদ্ধবিমান সরবরাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত দিয়েছে—সৌদি যদি এফ-৩৫ পেতে চায় তবে রিয়াদকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।
এদিকে আগামী মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। এই বৈঠকে এফ-৩৫ চুক্তি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সৌদি-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক ফোনালাপে ট্রাম্প সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে জানান, গাজার যুদ্ধ শেষ হওয়ায় এখন সৌদির জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আশা করেন, খুব দ্রুত সৌদি আরব ও ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কে জড়িত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা, এক্সিওস।