আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে স্মরণকালের ভয়াবহ খরা। বিশেষ করে উর্মিয়া লেকের আশপাশে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রচণ্ড খরা মোকাবিলা এবং পানি সংকট কাটাতে পরীক্ষামূলকভাবে ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে বৃষ্টি সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।
বার্তাসংস্থা ইরনাকে দেশটির এক কর্মকর্তা শনিবার (১৫ নভেম্বর) জানান, “উর্মিয়া লেকের অববাহিকায় কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানোর একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এটি চলতি পানি বছরের প্রথম ফ্লাইট।” তিনি আরও বলেন, পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ সফল হলে অন্যান্য খরাপ্রবণ অঞ্চলেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
উর্মিয়া লেক ইরানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি দেশটির সবচেয়ে বড় লেক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অনাবৃষ্টি, উচ্চ তাপমাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত পানি উত্তোলন এবং কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে লেকটির অধিকাংশ অংশ শুকিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে লেকটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ফলে এই অঞ্চলে পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান সরকার বলছে, ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি ঝরানোর প্রযুক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি সমাজে তাত্ক্ষণিকভাবে পানির ঘাটতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি খুবই নির্ভরশীল মেঘের উপস্থিতি, পরিবেশগত অবস্থা এবং তাপমাত্রার ওপর।
কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে ‘ক্লাউড সিডিং’ বলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—মেঘের ভেতরে থাকা জলীয় বাষ্পকে দ্রুত বড় জলকণায় পরিণত করে তা বৃষ্টি হিসেবে ঝরিয়ে দেওয়া। প্রক্রিয়াটি সাধারণত তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়।
প্রথম ধাপ: রাসায়নিক ছড়িয়ে দেওয়া
উপযুক্ত মেঘপুঞ্জ শনাক্ত হওয়ার পর বিমান বা রকেটের মাধ্যমে মেঘে সিলভার আয়োডাইড, শুষ্ক বরফ বা লবণজাতীয় রাসায়নিক ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এগুলো মেঘের ভেতরে ক্ষুদ্র জলকণাকে আকর্ষণ করতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয় ধাপ: ঘনীভবন প্রক্রিয়া
মেঘের ভেতরে থাকা জলীয় বাষ্প রাসায়নিক স্ফটিকের চারপাশে জমতে থাকে এবং দ্রুত বড় কণায় রূপ নেয়। একে ঘনীভবন বলা হয়।
তৃতীয় ধাপ: বৃষ্টিপাত সৃষ্টি
ঘনীভবনের ফলে গঠিত ভারী জলকণা আর বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না। ফলে তারা বৃষ্টি হয়ে নিচে ঝরে পড়ে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে শুষ্ক এলাকায় কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত পাওয়া সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের মতো খরাপ্রবণ দেশে এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। টেকসই জল ব্যবস্থাপনা, নদী পুনরুদ্ধার ও পানি সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে।