আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
কারাকাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার অভিযানের সময় কিউবার ৩২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। কিউবা সরকার সোমবার এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কিউবায় সামরিক হস্তক্ষেপের দরকার নেই, দেশটি নিজেই পতনের মুখে রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানিয়েছে, হাভানা রোববার জানিয়েছে, নিহত কিউবান যোদ্ধাদের সম্মানে ৫ ও ৬ জানুয়ারি দুই দিনের শোক পালন করা হবে। পরে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা প্রেনসা লাতিনা জানিয়েছে, নিহতরা ভেনেজুয়েলা সরকারের অনুরোধে সামরিক মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। “তীব্র প্রতিরোধের সময় তারা আক্রমণকারীদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে বা স্থাপনায় বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন,” সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
হাভানার এই বিবৃতিটি ওই অভিযানে কিউবান নাগরিকদের মৃত্যুর প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে সমর্থন প্রদান করছে।
শনিবার মার্কিন অভিযানের পর মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে বিচারের জন্য নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার স্থানীয় সময় মাদুরোকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মাদুরো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
৬৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের চোখে পট্টি বাঁধা এবং হাতকড়া পরার ছবি ভেনেজুয়েলার জনগণকে স্তব্ধ করেছে। ১৯৮৯ সালে পানামার হস্তক্ষেপের পর লাতিন আমেরিকায় এটি সবচেয়ে বিতর্কিত মার্কিন হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ভ্লাদিমির পাদ্রিনো জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় সৈন্য, বেসামরিক নাগরিক এবং মাদুরোর নিরাপত্তা দলের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছে। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে বলেও জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, “ভেনেজুয়েলায় অভিযান চলাকালে প্রচুর কিউবান নিহত হয়েছে। আমাদের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।” তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হুমকি দিয়ে বলেন, দেশটিতে মার্কিন সামরিক অভিযান করা ভালো প্রস্তাব বলে মনে হচ্ছে।
তবে কিউবার বিষয়ে তিনি যুক্তি দেন, দেশটি পতনের জন্য প্রস্তুত, সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। “কিউবার আয় এখন নেই, তাদের পূর্বের আয়ের মূল উৎস ছিল ভেনেজুয়েলা ও ভেনেজুয়েলার তেল। আর কিউবা আক্ষরিক অর্থেই পতনের মুখে,” ট্রাম্প বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে অনেক কিউবান-আমেরিকান আছেন, যারা কিউবার এই পরিস্থিতি দেখে সন্তুষ্ট হবেন।” এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব হিসেবে দেখছেন।