আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার প্রধান শহর গাজা সিটিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, এই হামলা শুক্রবার তুফাহ এলাকায় ঘটে। যুদ্ধের কারণে আশ্রয়হীন হওয়া কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি স্কুলের দোতলায় আয়োজন করা বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ সেখানে আইডিএফ বোমা ফেলে। হামলার কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি বাহিনী।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালানোর পর আইডিএফ গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা দুই বছর ধরে এই অভিযান চলেছে। এর ফলে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। গাজা উপত্যকা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েলি বাহিনী।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা তিন স্তরে বিভক্ত ছিল। প্রথম স্তরের মেয়াদকাল ছিল ৬ সপ্তাহ। এর পর যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই প্রথম স্তরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়কালে গাজায় আবারও হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন কর্মকর্তারা হামাস-ইসরায়েল উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার জন্য তাগাদা দিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১০ অক্টোবরের পর থেকে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে আইডিএফ গাজায় প্রায় দেড় শতাধিকবার ছোট-বড় হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষ ভীত ও আতঙ্কিত। স্থানীয়রা বলছেন, তাদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা প্রয়োজন।
হামলার ফলে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জরুরি সেবা প্রদানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
এই হামলা আবারও ইঙ্গিত দেয়, যে গাজার সাধারণ মানুষকে যুদ্ধবিরতির সুরক্ষা নেই। স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আইডিএফ সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।