আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিস ৬২ বছর বয়সে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী জোডি হেইডেনকে বিয়ে করেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ছোট একটি অনুষ্ঠানে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় বিয়ে করার ঘটনা এটিই প্রথম, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নধর্মী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত বছর ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে অ্যান্থনি জোডি হেইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রপোজ করেছিলেন। তবে বিয়ের তারিখ, স্থান ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়। বর-কনে এবং তাদের পরিজন ছাড়া এ তথ্য সম্পর্কে কেউ অবহিত ছিলেন না। পরিবার-পরিজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে ক্যানবেরার লজে আয়োজিত হয় তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান। বর ও কনে দুজনেই গোপনীয়তা বজায় রেখে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এই বিশেষ আয়োজন সম্পন্ন করেন।
বিয়ের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অ্যান্থনি বলেন, “আমরা আমাদের পরিবার ও বন্ধুদের সামনে একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ করেছি এবং সারাজীবন একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করতে পেরে সত্যিই খুব আনন্দিত।” এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দম্পতিকে অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যায়।
জোডি হেইডেন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যান্থনির পাশে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইভেন্টে নিয়মিত দেখা গিয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ওই নির্বাচনে অ্যান্থনির লেবার পার্টি বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরে।
বিয়ের বিশেষ দিনে জোডি হেইডেন পরেছিলেন সিডনিভিত্তিক ডিজাইনার ‘রোম্যান্স ওয়াজ বর্ন’-এর তৈরি একটি আকর্ষণীয় পোশাক। অন্যদিকে অ্যান্থনি পরেন এমজে বেলের তৈরি ক্লাসিক স্যুট। অনুষ্ঠানের আরেকটি ব্যতিক্রমী আকর্ষণ ছিল—প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় কুকুর টোটো, যে আংটি বহনকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অতিথিদের মন জয় করে নেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের পরিবেশন করা হয় বিশেষ ক্যানজাত বিয়ার, যা ছিল নবদম্পতির ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতিফলন। অতিথিরা জানান, পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, সরল কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া।
বিয়ের পরপরই নবদম্পতি ঘোষণা করেছেন, তারা সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াতেই হানিমুন করবেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হানিমুনের সব খরচ নিজ দায়িত্বে বহন করবেন অ্যান্থনি ও জোডি—যা স্থানীয় নাগরিকদের কাছেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। দম্পতির ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, এই সময়টা তারা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবেই কাটাতে চান, সরকারি কাজ থেকে দূরে থেকে।
অ্যান্থনি আলবানিসের বয়স, রাজনৈতিক দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়ার জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসাহ ও বিস্ময়। প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সময়সূচির মাঝেও দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে বিয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকে আধুনিক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
এই বিবাহ সমাজেও বার্তা দিয়েছে—ব্যস্ততা কিংবা দায়-দায়িত্বের মধ্যেও ব্যক্তিগত জীবনকে মূল্য দেওয়া যায়। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন মানবিক মুহূর্ত নেতাদের প্রতি মানুষের আবেগ আরও গভীর করে তোলে এবং তাদের মানবিক দিকটি উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে।
সূত্র: রয়টার্স